কমিউনিটি সেন্টার ও সুইমিং পুল হচ্ছে জ্যাকসন হাইটসে
ঠিকানা রিপোর্ট
প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:১৫
•
অনলাইন সংস্করণ
নিউইয়র্কের বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসে প্রথমবারের মতো নির্মিত হতে যাচ্ছে পূর্ণাঙ্গ কমিউনিটি সেন্টার ও সর্বসাধারণের জন্য সুইমিং পুল। দীর্ঘদিনের এ দাবি বাস্তবায়নে গত ১৪ অক্টোবর বুধবার এক কোটি ডলার অনুদানের ঘোষণা দিয়েছেন নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল। এ নিয়ে প্রকল্পটির জন্য মোট ৩ কোটি ৩৮ লাখ ডলারের অর্থায়ন নিশ্চিত হয়েছে।
জ্যাকসন হাইটসের ৭০-০২, ৩৪ অ্যাভিনিউয়ে সাবেক ‘বিকিউই বিলিয়ার্ডস অ্যান্ড বার’-এর স্থানে প্রায় ৩০ হাজার বর্গফুটের কেন্দ্রটি নির্মাণ করবে ভ্যারাইটি বয়েজ অ্যান্ড গার্লস ক্লাব অব কুইন্স। এতে থাকবে ইনডোর সুইমিং পুল, বাস্কেটবল কোর্ট, জিমনেসিয়াম, থিয়েটার, শ্রেণিকক্ষ এবং শিশু-কিশোরদের শিক্ষা ও বিনোদনের সুযোগ।
জ্যাকসন হাইটসের পিএস ৩৯৮ স্কুলে আয়োজিত অনুদান ঘোষণা অনুষ্ঠানে গভর্নরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সিটি কংগ্রেস সদস্য গ্রেস মেং, নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের স্পিকার জুলি মেনিন, কাউন্সিল সদস্য শেখর কৃষ্ণান, ডেমোক্রেটিক পার্টির কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট লিডার অ্যাড লার্জ অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
গভর্নরের ঘোষিত এক কোটি ডলার ছাড়াও মেট্রোপলিটন পার্ক প্রকল্প থেকে জমি অধিগ্রহণে আসছে আরও এক কোটি ডলার। নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল দিচ্ছে ৯৩ লাখ ডলার। ফেডারেল বরাদ্দ হিসেবে সিনেটর চাক শুমার ও কার্স্টেন জিলিব্র্যান্ডের মাধ্যমে ২০ লাখ এবং কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেংয়ের মাধ্যমে ১০ লাখ ডলার পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া স্টেট অ্যাসেম্বলি সদস্য জেসিকা গঞ্জালেস-রোহাস, স্টিভেন রাগা ও ক্যাটালিনা ক্রুজের উদ্যোগে যুক্ত হচ্ছে আরও ১৫ লাখ ডলার। তবে প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে প্রায় ছয় কোটি ডলার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন কাউন্সিল সদস্য শেখর কৃষ্ণান। অবশিষ্ট অর্থ সংগ্রহে অতিরিক্ত তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নতুন কেন্দ্রে স্কুল-পরবর্তী শিক্ষা, গ্রীষ্মকালীন কর্মসূচি, সাঁতার প্রশিক্ষণ, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, স্বাস্থ্যসেবা-সংশ্লিষ্ট উদ্যোগ ও কর্মসংস্থানমুখী প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকবে। প্রবীণদের জন্যও বিশেষ কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে। কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, প্রতিবছর পাঁচ থেকে দশ হাজার শিশু-কিশোর এ কেন্দ্রের সুবিধা পাবে।
ভবিষ্যতে সাশ্রয়ী আবাসন, শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র ও উন্মুক্ত বিনোদনের জায়গা যুক্ত করার সম্ভাবনাও বিবেচনাধীন রয়েছে। তবে এসব পরিকল্পনা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
কাউন্সিল সদস্য শেখর কৃষ্ণান বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ জ্যাকসন হাইটসে কয়েক দশক ধরে কমিউনিটি সেন্টার ও সুইমিং পুলের অভাব রয়েছে। নতুন কেন্দ্রটি সেই দীর্ঘদিনের ঘাটতি পূরণ করবে।
গভর্নর হোকুলের মতে, এ বিনিয়োগের উদ্দেশ্য শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়; বরং শিশুদের নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠা, দক্ষতা অর্জন এবং বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে সামাজিক বন্ধন গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করা।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশিসহ স্থানীয় অভিবাসী পরিবারগুলো নিজ এলাকায় খেলাধুলা, সাঁতার, শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের নতুন সুযোগ পাবে। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের পরিবারের শিশু-কিশোরদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
জমি অধিগ্রহণ, নকশা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত গ্রহণের প্রক্রিয়া শেষে নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় অর্থায়ন পাওয়া গেলে চলতি দশকের শেষ নাগাদ কেন্দ্রটি চালুর আশা করছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ।